সাহিত্য পত্রিকা দেখতে এখানে প্রবেশ করুন:
Journal.bangla.du.ac.bd
সাহিত্য পত্রিকা: Journal.bangla.du.ac.bd
ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় পূর্ববঙ্গীয় স্বাতন্ত্র্য নির্ধারণ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পালাবদলের প্রধান চিন্তাকেন্দ্র। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এলে মুসলিম রাজনীতিকদের একটি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে আরো কিছু দাবির সঙ্গে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ৩১ জানুয়ারি ১৯১২ তারিখে এ সাক্ষাতের পরবর্তীকালে ২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ঘোষণা, ৪ এপ্রিল ভারত সচিবের অনুমোদন লাভ এবং ২৭ মে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানকে প্রধান করে ছয় জন ব্রিটিশ, চার জন মুসলমান ও চারজন হিন্দু প্রতিনিধি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন রিপোর্ট দেয় ২৪ ডিসেম্বর ১৯১২; সুপারিশ মতে, সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির সমন্বিত রূপ। জনমত যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে-বিপক্ষে বাদানুবাদ সূচিত হয়; এর অনেকগুলোই প্রাদেশিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীস্বার্থের সঙ্গে জড়িত। কমিশনের সুপারিশের কিছু সংশোধনের পর ১৯১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি ভারত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়। এরপরও ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায় কলকাতা-কেন্দ্রিক বিরোধিতা এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) কার্যকারণে। ১৯১৭ সালে গঠিত ‘কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন' বা ‘স্যাডলার কমিশনে'র নির্দেশনার সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ । স্যাডলার কমিশন নাথান কমিশনের নির্দেশনা কিছু সংশোধনীসহ মান্যতা দেয় ১৯১৯ সালের ১৮ মার্চ। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ The Dacca University Act (Act no. XVIII) ঘোষিত হয় এবং এই মোতাবেক ১৯২১ সালের ১ জুলাই শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক যাত্রা। ১৯২০ সালের আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি নিশ্চিত করেছে শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমের আপেক্ষিক স্বাধীনতা, যদিও প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন হতো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে। আইনের ধারা ৪(১১)-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয় বিদ্যাচর্চার বিশেষ স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা: ‘বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের যে শাখাকে উপযুক্ত মনে করে, সে শাখায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে এবং গবেষণা ও জ্ঞানের অগ্রগতি ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।' আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চা ও বিকাশের নিশ্চয়তাও ছিল সেই আইনে, ‘... একটি শিক্ষণ ও পরীক্ষণ সংস্থা হিসেবে এবং কলা, বিজ্ঞান ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখার বিকাশ ও বিস্তার ঘটানোর।' (উদ্ধৃত, তানজীমউদ্দিন, ২০১৭: ১৯৭)। অধিকার, ক্ষমতা ও স্বাধীনতার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে। কিন্তু ১৯৬১ সালের ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ' জারির মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন। এ অধ্যাদেশ জারির পর থেকেই শিক্ষকেরা একে কালাকানুন হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা বাতিলের জন্য শুরু করেন আন্দোলন। স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে, এবং জারি করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩' । বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুসারে।
বিভাগ গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে স্যাডলার কমিশন রিপোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক এটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পরীক্ষাসর্বস্ব হবে না, এখানে ছাত্র-শিক্ষকের প্রত্যক্ষ যোগ ঘটবে টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে এবং এ পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কালে সৃষ্টিশীলতা ও নতুন চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বারবার বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় যথাক্রমে স্যার ফিলিপ হার্টগ ও এইচ.ই. স্টেপলটনকে। দুজনের আগ্রহ ছিল ঢাকাকে পূর্ববাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক রাজধানী হিসাবে গড়ে তোলার (সৈয়দ আবুল, ২০২১: ২৫)। তাঁরা চেয়েছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান অনুসন্ধান ও গবেষণায় অগ্রগণ্য। তবে ব্যাপারটি সহজ ছিল না; শুরুতেই গোষ্ঠী স্বার্থ, সাম্প্রদায়িকতা ও ভাষা-বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের।

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.
সাহিত্য পত্রিকা: Journal.bangla.du.ac.bd